ঘুমের মধ্যে শ্বাস-বন্ধ রোগের লক্ষণ ও করণীয়

ঘু’মের মাঝে শ্বা’স-প্রশ্বা’স বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো একটি জটিল সমস্যা হলো স্লিপ এপনিয়া। স্লিপ এপনিয়া হলে ঘু’মের মাঝে দশ সেকেন্ড থেকে কিছু মিনিট সময় ধরে শ্বা’স-প্রশ্বা’স বন্ধ হয়ে যায়।

আর এ সমস্যাতে ঘু’মের মাঝে শ্বা’স-প্রশ্বা’স বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমা’দের র’ক্তে অক্সিজেনের পরিমাণও কমে যায়। অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্ক জেগে ওঠে এবং ঘু’ম ভেঙে যায়।

এ রোগে আ’ক্রা’ন্ত রোগীরা ঘু’ম ভাঙার পর শ্বা’স নেয় এবং স’ঙ্গে স’ঙ্গে আবার ঘু’মিয়ে পড়ে। খুবই জটিল অবস্থায় সারারাতে বারবার শ্বা’স বন্ধ ও

ঘু’ম ভাঙা এ চক্রটি চলতে থাকে। ফলে ঘু’মিয়েও ঘু’ম পূরণ হয় না। এ ঘটনাগু’লো যেহেতু গভীর ঘু’মের মাঝে ঘটছে তাই রোগী তার এ সমস্যা

বুঝতে পারে না। সকালে ঘু’ম থেকে উঠে হয়তো তাদের মনেও থাকে না। যেহেতু বারবার ঘু’ম ভাঙার ফলে ঘু’মিয়ে কখনো ঘু’ম পূরণ না হওয়ার ফলে সারাদিন ঘু’ম ঘু’ম ভাব থাকে।

আর ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) হচ্ছে ফুসফুসের একগু’চ্ছ রোগ। এ রোগের মাঝে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস ও

এম্ফাসিমা দীর্ঘস্থায়ী অ্যাজমা। এটি সাধারণত আট’কে থাকা বা সরু শ্বা’সনালি অথবা অভ্যন্তরীণ কাঠামোর প্রদাহ অথবা ফুসফুসের বায়ু থলির ক্ষ’তির কারণে শ্বা’সকষ্ট দেখা যায়।

দীর্ঘমেয়াদি শ্বা’সকষ্টের রোগ সিওপিডি। সিওপিডিতে শ্বা’সকষ্ট ঘু’মকে প্রভাবিত করতে পারে বিভিন্নভাবে। যারা সিওপিডিতে ভুগছেন, তারা

বেশিরভাগ কম/বেশি ঘু’মের সমস্যার অ’ভিযোগ করেন। সামগ্রিকভাবে সিওপিডিতে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তির ঘু’মের গু’ণগত মান ও সময় কমে যায়, রাতে শ্বা’স নিতে কষ্ট হয় এবং তারা প্রায়ই জেগে উঠতে পারেন।

এ রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন ইনজিনিয়াস পালমো ফিটের স্লিপ কনসালট্যান্ট ডা. ফাতেমা ইয়াসমিন। ফুসফুসের জার্নালে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত সিওপিডি রোগী স্লিপ এপনিয়ায় ভোগেন। স্লিপ এপনিয়ার স’ঙ্গে সিওপিডি যুক্ত হলে চিকিৎসকরা এটিকে ‘ওভারল্যাপ সিনড্রোম’ হিসাবে উল্লেখ করে থাকেন। সিওপিডি রোগীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে। স্লিপ এপনিয়ার স’ঙ্গে সিওপিডি যুক্ত হলে এটি উচ্চ র’ক্তচাপ, পালমোনারি হাইপারটেনশন, অ্যারিথমিয়া, হার্ট ফেইলিওর এবং চিকিৎসা না করা হলে স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যায়। স্লিপ এপনিয়া আ’ক্রা’ন্ত রোগীদের পালমোনারি হাইপারটেনশন হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পালমোনারি হাইপারটেনশন হলো এক ধরনের ফুসফুসের উচ্চ র’ক্তচাপ। এটি ফুসফুসের ধমনিতে এবং হৃৎপিণ্ডের ডানদিকে র’ক্তচাপ বৃ’দ্ধি করে।

পালমোনারি হাইপারটেনশনের রোগীদের শ্বা’সকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং বুকে চাপ অনুভব করে। চিকিৎসা না করালে, সিওপিডির মতো পালমোনারি হাইপারটেনশন ও সময়ের স’ঙ্গে স’ঙ্গে খারাপ হয়। স্লিপ এপনিয়াতে সৃষ্ট প্রদাহ সিওপিডিতে প্রদাহকে আরও খারাপ করতে পারে।

ধূমপান স্লিপ এপনিয়া এবং সিওপিডি উভয়ের স’ঙ্গেই জড়িত। ধূমপান প্রদাহকে ট্রিগার করে, উভয় অবস্থার ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত ওজন স্লিপ এপনিয়ার ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়। এটি পুরুষদের মধ্যে স্লিপ এপনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া সিওপিডির রোগীদের রাতের লক্ষণগু’লো সাধারণত উপেক্ষা করা হয়। রোগটি শনাক্ত করার প্রয়োজনে সিওপিডিতে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তির মাঝে যদি কোনো রাতের উপসর্গ থেকে থাকে সেগু’লো অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে অবহিত করা প্রয়োজন। এ উপসর্গগু’লোর মধ্যে যে কোনো একটির উপস্থিতি যদি সিওপিডির রোগীর মাঝে থাকে তবে চিকিৎসকে জানানো প্রয়োজন :

’ রাতে নাক ডাকা ’ রাতে হাঁপানি বা দম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অনুভব করা ’ সকালে মাথাব্যথা ’ দিনেরবেলা অতিরিক্ত ঘু’ম ’ স্থূলতা ’ দিনেরবেলা র’ক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকা ’ দিনেরবেলা কার্বন ডাই অক্সাইড বৃ’দ্ধি পাওয়া ’ পালমোনারি হাইপারটেনশন ’ ডানদিকের হার্ট ফেইলিওর ’ পলিসিথেমিয়া (র’ক্তে লাল র’ক্ত কোষের উচ্চ ঘনত্ব)

’ ডায়াবেটিস, হার্ট ফেইলিউর বা স্ট্রোকের ইতিহাস-এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক ঘু’মের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর ঘু’মের অসুবিধাগু’লোর ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারবে। পলিসোমনোগ্রাফি অথবা স্লিপ টেস্ট একটি সর্বাধুনিক পরীক্ষা প’দ্ধতি যার মাধ্যমে খুব সহজেই এ রোগটি নির্ণয় করা যায়। ঘু’মের পরীক্ষার/স্লিপ এপনিয়া পরীক্ষা, যা পলিসোমনোগ্রাফি (PSG) নামেও পরিচিত। এটি আপনার শ্বা’স-প্রশ্বা’সের ধরন, র’ক্তের অক্সিজেনের মাত্রা এবং ঘু’মের পর্যায় এবং ঘু’মের মাঝের পরিবর্তনগু’লো ব্যাপকভাবে ধারণ করা হয়।

এ পরীক্ষাটি দ্বারা ঘু’মের মাঝে কখন, কতবার এবং কী ধরনের শ্বা’স বন্ধ হচ্ছে তা বোঝা যায়। আবার কিছু রোগীর জন্য একটি বিকল্প হলো হোম স্লিপ টেস্ট (এইচএসটি), যেখানে রোগীরা তাদের নিজের বাসায় এবং নিজের বিছানায় ঘু’মাতে পারে (যদিও পরীক্ষাটি ল্যাব’ে করানো উত্তম)। রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসার মাধ্যমে উপসর্গগু’লোর তীব্রতা কমাতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। চিকিৎসার লক্ষ্য হলো শ্বা’স-প্রশ্বা’স এবং র’ক্তে অক্সিজেনের মাত্রা উন্নত করা এবং র’ক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমানো।

চিকিৎসা প’দ্ধতির মধ্যে রয়েছে পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার/পিএপি (PAP) থেরাপি, অক্সিজেন থেরাপি, ব্রঙ্কোডাইলেটর এবং পালমোনারি রিহাবিলেশন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় বহুল প্রচলিত চিকিৎসা হলো পিএপি (PAP) ডিভাইস এর ব্যবহার। এ মেশিনটি দ্বারা ঘু’মের মাঝে শ্বা’স বন্ধ সমস্যাটি দূর করা যায়। মেশিনটি দ্বারা একটি নির্দিষ্ট চাপে বাতাস প্রবাহ হয়, যা রোগীর নাক বা নাক-মুখ দিয়ে শ্বা’সনালিতে প্রবেশ করে এবং স্লিপ এপনিয়া ’হতে বাধা দেয়। রাতের ভালো ঘু’ম এবং জীবনের মানের উন্নতির জন্য গু’রুত্বপূর্ণ। নিয়মিত চিকিৎসায় রোগের লক্ষণগু’লো কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগু’লোর ঝুঁকি কমায়।