শিশু হৃ’দরোগে আ’ক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ, কী করবেন?

শিশুর জটিল রোগগু’লোর একটি হৃদরোগ। বর্তমানে প্রা’প্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদেরও হৃদরোগ হচ্ছে। অনেক শিশু জন্মগত হৃদরোগী।
এ বি’ষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সোসাইটি

অব বাংলাদেশের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন হৃদরোগের অনেক উপসর্গ রয়েছে। কিছু কিছু উপসর্গ থাকলে শিশুর

হৃদরোগ আছে তা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। জন্মগত হলেও জন্মের পর বা কিছু সময়ের জন্য জন্মগত হৃদরোগের কোনো লক্ষণ নাও

থাকতে পারে। কখনও কখনও সাধারণ জন্মগত হৃদরোগ, যেমন ‘হোল-ইন-হার্ট’ জন্মের পর প্রথম কয়েক স’প্তাহে শনাক্ত করা যায় না।

সবচেয়ে সাধারণ হৃদরোগ যেমন ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস প্রথম ১-৪ স’প্তাহে লক্ষণহীন থাকতে পারে। এটি ফুসফুসের চাপ এবং র’ক্তপ্রবাহ পরিপক্কতায় বিলম্বের

কারণে ঘটে থাকে। ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ত্রুটি এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস (ভিএসডি এবং পিডিএ) ধীরে ধীরে ফুসফুসের চাপ ও র’ক্ত প্রবাহ বৃ’দ্ধি করে এবং হার্টের আকারও বাড়ায়।

হৃৎপিণ্ডে একটি বড় ছিদ্র হলে ফুসফুস এবং শরীরের মধ্যে র’ক্ত প্রবাহের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। হৃৎপিণ্ডে একটি বড় ছিদ্র বর্ধিত শ্বা’স-

প্রশ্বা’সের প্রচেষ্টার জন্য হৃদস্পন্দন বৃ’দ্ধি পায়। এর ফলে শরীরের বৃ’দ্ধি ধীর হয়, দুর্বল বা ওজন বৃ’দ্ধি পায় না। জন্মের ৪-৬ স’প্তাহ পরে লক্ষণগু’লো শুরু হয়।

অ্যাট্রিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট হলো আরেক ধরনের ছিদ্র, যা অনেক বছর ধরে প্রা’প্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সু’প্ত থাকতে পারে। স্টেনোসিস বা ভালভের

সংকীর্ণতা যে কোনো বয়সে এমনকি প্রা’প্তবয়স্কদের মধ্যেও ’হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরীক্ষা করানো উচিত। যারা

হৃদরোগের জন্য কিছু সূত্র খুঁজে বের করতে ক্লিনিকাল পরীক্ষা ছাড়াও বিশেষ কিছু পরীক্ষা যেমন বুকের এক্স-রে, ইকো এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফি উপর ভিত্তি করে CHD-এর উপস্থিতি সনাক্ত করতে পারে।

নিম্নলিখিত বিশেষ বিশেষ লক্ষণ দেখা গেলে অবশ্যই জন্মগত হৃদরোগের ব্যপারে শিশু বিশেষজ্ঞের স’ঙ্গে পরামর’্শ করতে হবে। ’ দুধ খাওয়ার সমস্যা : শিশু যদি কিছু সময় দুধ চুষেই হাপিয়ে যায় এবং দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়, তারপর আবার চুষতে শুরু করে অথবা দুধ খেতে বেশি সময় নেয় (>২০ মিনিট), কিংবা খাওয়ার সময় শ্বা’স-প্রশ্বা’সের গতি বেড়ে যায় এবং ঘাম হয়। ’ ওজন বৃ’দ্ধি সন্তোষজনক না হলে : শিশুর ওজন বৃ’দ্ধির হার বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ না হলে।

’ ঘনঘন ঠান্ডা লাগা বা কাশি হওয়া : শিশুর বারবার নিউমোনিয়ায় আ’ক্রা’ন্ত হলে তাহলে আংশকা থাকে তার হার্টের ত্রুটি আছে। ’ জ্বর বা কাশি ছাড়া, ক্রমাগত দ্রুত শ্বা’স-প্রশ্বা’স (এমনকি ঘু’মের সময়) এবং বুকের পাজর বা খাঁচা দেবে যাওয়া। ’ শিশুর হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত চলে (এমনকি ঘু’মের সময়ও)। মা-ই এ বি’ষয়টি সহজে ধরতে পারবেন। ’ শিশুর ঠোঁট, জিহ্বা এবং নখ নীলাভ হবে বা কান্নার সময় নীল হয়ে যায়। জন্মগত হৃদরোগের কারণে ত্বক, নখ, জিহ্বা এবং ঠোঁটের রঙ পরিবর্তন ’হতে পারে। এটি ঘটে যখন ভালো বা অক্সিজেন সমৃ’’দ্ধ লাল র’ক্ত অক্সিজেন ক্ষয়প্রা’প্ত নীল র’ক্তের স’ঙ্গে মিশে যায় এবং শরীরে সঞ্চালিত হয় যা ত্বক, নখ, জিহ্বা এবং ঠোঁটে সর্বদা বা কমপক্ষে যখন সে কাঁদে তখন স্পষ্ট হয়।

এটি একটি গু’রুতর জন্মগত হৃদরোগ, যার জন্য প্রাথমিকভাবে ওপেন হার্ট সার্জারির প্রয়োজন হয়। উপরের কয়েকটি লক্ষণ বা সমস্যা পরিলক্ষিত হলে ডাক্তারের পরামর’্শে জন্মের প্রথম কয়েক স’প্তাহে হার্ট সার্জারি করাতে হবে। জন্মগত হৃদরোগে আ’ক্রা’ন্ত শিশুর যত্ন কিছু কিছু CHD-এর প্রাথমিক বা জরুরী হস্ত’ক্ষেপ ও চিকিৎসা প্রয়োজন হয়, অন্যথায় শিশুর বেঁচে থাকা ঝুঁকিতে পড়ে বা অ’পুরণীয় ক্ষ’তি হয়ে যায়। CHD-এর লক্ষণ ও টাইপের উপর নির্ভর করে কিছু CHD নিয়মিত ফলো-আপের প্রয়োজন হয় এবং প্রথম দিকে প্রতি কয়েক স’প্তাহ পর পর প্রয়োজনীয় ফলো-আপ প্রয়োজন ’হতে পারে।

জন্মগত হৃদরোগে আ’ক্রা’ন্ত শিশু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, তবে কিছু কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাই মাতা-পিতাই সঠিক ভাবে যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারেন। যদি সময় মতো CHD নির্ণয় করা হয় এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরামর’্শ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় তবে বেশিরভাগ CHD নিরাময়যোগ্য। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি এবং কিছু ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসার প্রয়োজন ’হতে পারে। তবে, CHD-এর বেশিরভাগই সাধারণ ত্রুটি এবং অনেক ক্ষেত্রে শুধু ঔষধেই নিরাময়যোগ্য। যেসব শিশু সময়মতো চিকিৎসা পায়, তারা তাদের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী জীবন ধারন করতে পারে। অন্যদিকে, CHD আ’ক্রা’ন্ত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু পূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে না এবং তাদের একটি সীমাব’দ্ধ ও পরিমিত জীবনধা’রা পালনের পরামর’্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রেও তাদের একাধিক প’দ্ধতির প্রয়োজন ’হতে পারে। নীল শিশুরা ডিহাইড্রেশন এবং র’ক্তস্বল্পতা সহ্য করতে পারে না, তাই এই নীল শিশুরা কান্না করলে তাদের সমস্যা গু’রুতর হয়ে যায়, যাকে স্পেল বলা হয়। যখন তারা দ্রুত শ্বা’স নেয় ও আরও নীল হয়ে যায় এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর’্শ নেওয়া দরকার। এই শিশুদের ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
CHD আ’ক্রা’ন্ত হলে সময়মতো চিকিৎসা সর্বোত্তম ফলাফল নিয়ে আসে। প্রথম সন্তান যদি CHD-তে আ’ক্রা’ন্ত হলে সেই মা যদি দ্বিতীয়বার গ’র্ভবতী হন তাহলে অনাগত শিশুদের মধ্যে ২-৫% এর CHD-তে আ’ক্রা’ন্ত ঝুঁকি থাকে। এক্ষেত্রে গ’র্ভাবস্থায় প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পরামর’্শ মতো চলা উচিৎ। ১৬ থেকে ১৯ স’প্তাহের মধ্যে ইকোকার্ডিওগ্রাফি করে গ’র্ভের শিশুর CHD ধ’রা পড়লে গ’র্ভপাতের পরামর’্শ দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিংয়েরও সুপারিশ করা হয়।

’ পরিচর্যাকারীকে অবশ্যই কঠোরভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। ’ বয়স্ক শিশুদের দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই শেখানো উচিত। ’ খাদ্যতালিকা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সংক্রা’ন্ত পরামর’্শ অনুসরণ করতে হবে। ’ এ ধরনের শিশুদের জন্য ব্যায়াম সীমিত ও কাস্টমাইজ করা আবশ্যক, কিন্তু বন্ধ করা উচিত নয়। ’ সুরক্ষার জন্য টিকাদান সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে। অতিরিক্ত অত্যাব’শ্যক টিকা যেমন- নিউমোকোক্কাল ভ্যাকসিন, মেনিনোকোক্কাল ভ্যাকসিন এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দিতে হবে। ’ সংক্রমণে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তির স’ঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে যাদের জ্বর, কাশি, সর্দি, হা’ম, চিকেনপক্স এবং ডায়রিয়া আছে। ’ যদি ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ্বর হয় বা নির্দিষ্ট কিছু অ’স্ত্রোপচার করাতে হলে বা যাদের করা হয়েছে, তাদের অবশ্যই পরামর’্শমতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রফিল্যাক্সিস দিতে হবে। ’ জন্মগত হৃদরোগে আ’ক্রা’ন্ত শিশুরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে বেশি। বিশেষ করে শ্বা’সযন্ত্রের সংক্রমণ যেমন, নিউমোনিয়া হওয়ার আশংকা বেশি দেখা যায়।