বৃদ্ধাশ্রমে প্রেম, ৬৫ বছরের বৃদ্ধাকে বিয়ে করলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ

“প্রথমবার ওর প্রেমের প্রস্তাব ফেরালেও লুকিয়ে কেঁদেছিলাম। পরে ভেবে দেখলাম, শেষ জীবনে এর চেয়ে বড় প্রা’প্তির কিছু ’হতে পারে না।’’

বৃ’দ্ধাশ্রমে দু’জনের প্রথম দেখা। ৬৫ বছর বয়সী অ’প’র্ণাকে ভাল লেগে যায় ৭০ বছরের সুব্রতের। চুলে পাক ধরেছে। দৃষ্টিশক্তি কিছুটা ক্ষীণ হয়েছে।

কিন্তু প্রেমে পড়তে লাগে বয়স। দ্বিধা না রেখে প্রেম নিবেদন করেই ফেলেন সুব্রত। কিন্তু পত্রপাঠ সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন অ’প’র্ণা। মন ভেঙেছিল। অ’ভিমানে বৃ’দ্ধাশ্রমও ছেড়েছিলেন। তার পর কে’টে গিয়েছে প্রায় তিন বছর।

তবু শেষে তার প্রেমে ধ’রা দিলেন প্রেমিকা। আর কালবিলম্ব না করে এই বসন্তেই সাতপাকে বাঁধা পড়লেন নদিয়ার রানাঘাটের সুব্রত সেনগু’’প্ত ও অ’প’র্ণা সেনগু’’প্ত।

নদিয়ার চাকদহ লালপুরের বাসিন্দা সুব্রত। রাজ্য পরিবহণ দফতরের অবসরপ্রা’প্ত কর্মী। পরিবারে মা, দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রী-সন্তানরা আছে। তার বিয়ে করা হয়নি। পারিবারিক সমস্যার কারণে ২০১৯ সালের শুরুতে রানাঘাটের পূর্ণনগর জগদীশ মেমোরিয়াল বৃ’দ্ধাশ্রমে শেষ জীবন কা’টাতে বাড়ি ছেড়েছিলেন সুব্রত।

তিনি যাওয়ার আগেই বৃ’দ্ধাশ্রমে থাকতেন অ’প’র্ণা। প্রথম জীবনে এক অধ্যাপকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। তিনিও ছিলেন অবিবাহিতা। জীবন সায়াহ্নে ওই অধ্যাপকের পরিবারে আর আশ্রয় পাননি। শেষ জীবনে বাপের বাড়ির দরজাও তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

অতঃপর ঠিকানা বৃ’দ্ধাশ্রম। আইসতলার সেই অ’প’র্ণা এবং লালপুরের সুব্রত জীবনের নয়া ইনিংস শুরু করলেন শনিবার।

সুব্রত জানান, বৃ’দ্ধাশ্রমেই দু’জনের প্রথম দেখা। প্রেম নিবেদন করেছিলেন। কিন্তু অ’প’র্ণা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার পর গত ২০২০ সালের মা’র্চে বৃ’দ্ধাশ্রম ছেড়ে ওই এলাকাতেই ঘর ভাড়া করে থাকতে শুরু করেন তিনি। দিন ১০-১২ আগে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

সে কথা কানে পৌঁছতেই তার দেখভালের জন্য এগিয়ে আসেন অ’প’র্ণাই। ওই ক’দিনে নিজেদের ভাল করে চিনেছেন। তাই নতুন করে পথচলার সিন্ধান্ত নেন। কিন্তু বিয়েতে ‘অ’ভিভাবক’ কে হবেন? দু’জন গিয়ে ধরেন বৃ’দ্ধাশ্রমের কর্ণধার গৌরহরি সরকারকে। তার পরই রেজিস্ট্রি করে বিয়ে।

৭০ বছরের সুব্রতের কথায়, “প্রথম দিন অ’প’র্ণাকে দেখে চোখ ফেরাতে পারিনি। ওর মতো এক জন সঙ্গীকে নিয়েই বাকি জীবন কা’টাতে চেয়েছিলাম। স্ত্রীর মর’্যাদা দিয়ে ঘরে এনেছি।

ও আর পরিচারিকা নয়। আমা’র ঘরের লক্ষ্মী।’’ আর লাজুক হেসে অ’প’র্ণা বলেন, “প্রথম বার ওর প্রেমের প্রস্তাব ফেরালেও লুকিয়ে কেঁদেছিলাম। পরে ভেবে দেখলাম, শেষ জীবনে এর চেয়ে বড় প্রা’প্তি কিছু ’হতে পারে না।’’ সূত্র: আনন্দবাজার

[X]