free hit counter

লি’ম্ফোমা কী? রক্তের ক্যা’ন্সার লি’ম্ফোমার লক্ষণ

২০০৪ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতিবছর প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ লিম্ফোমায় আ’ক্রা’ন্ত হয়। এদের অধিকাংশেরই রোগ নির্ণয়ে কিছুটা দেরি হয়।

কারণ প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পাবার পরও রোগীরা সাধারণত অ’পেক্ষা করে, নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায় কিনা সেই আশায়। লিম্ফোমা কি?

লিম্ফোমা হলো র’ক্তের বিশেষ এক প্রকারের ক্যান্সার যা মূলত লিম্ফনোড বা লসিকা গ্রন্থিগু’লোকে আ’ক্রা’ন্ত করে। র’ক্তের প্রধান উপাদান দুটি। র’ক্তরস ও র’ক্তকোষ। র’ক্তের বিভিন্ন কোষীয়

উপাদানের একটি হলো লিম্ফোসাইট, যা মূলত এক প্রকার শ্বেতর’ক্তকণিকা। এর প্রধান কাজ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ করা। বিভিন্ন কারণে এই

লিম্ফোসাইটের অস্বাভাবিক বৃ’দ্ধি হলে দেখা দেয় লিম্ফোমা নামক ক্যান্সার। লিম্ফোসাইট যেসব অ’ঙ্গে তৈরি ও বৃ’দ্ধি হয় এসব অ’ঙ্গের মধ্যে

রয়েছে লিম্ফনোড, স্প্লিন (প্লিহা), টনসিল ইত্যাদি। লিম্ফনোড শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। সুস্থ অবস্থায় এদের তেমন বোঝা যায় না। কিন্তু

কোনো কারণে আকার বড় হলে তা বোঝা যায়। শরীরের বিভিন্ন অংশে লিম্ফনোডগু’লো ছড়িয়ে আছে। তবে গলার দুই দিকে, ফুসফুসের দুই পাশে ও পেটের অভ্যন্তরে এর উপস্থিতি বেশি বোঝা যায়।

লক্ষণ
শরীরের কোনো এলাকায় লিম্ফনোড বা অন্য কোনো লিম্ফেটিক অ’ঙ্গ অস্বাভাবিক বড় ’হতে থাকে। ফুলে যাওয়া লিম্ফনোডগু’লো রাবারের মতো নরম ও ব্যথাহীন হয়। এর স’ঙ্গে দীর্ঘদিনের জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ও রাতের বেলায় প্রচুর ঘাম হয়। লিম্ফোমা’র জ্বর হয় সাধারণত অনিয়মিত ধরনের। মানে আসে আবার চলে যায়। জ্বরের মাত্রা কখনো খুব বেশি হয়, কখনো সামান্য। এই লক্ষণগু’লোর অধিকাংশই যক্ষ্মা’র স’ঙ্গে মিলে যায় যা বিশেষ পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত ’হতে হয়।

প্রকার
মূলত দুই প্রকার। হজকিনস লিম্ফোমা ও নন হজকিনস লিম্ফোমা। এর মধ্যেও অনেক সুক্ষ্ম রকমফের আছে।

এদের চিকিৎসায়ও বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

কারণ
অন্যান্য ক্যান্সারের মতো লিম্ফোমা’র কারণও নানাবিধ। অনেকটাই অজ্ঞাত। তবে কিছু কিছু জীবাণু যেমন- হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়া, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, এইডস, ইবস্টেইন বার ভাইরাস ইত্যাদি কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। রে’ডিয়েশন, টিস্যুর অন্যান্য রোগের পরোক্ষ প্রভাব ইত্যাদিও কারণ হিসেবে কাজ করে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
আ’ক্রা’ন্ত লিম্ফনোড থেকে টিস্যু কে’টে নিয়ে বায়োপ্সী করাই হলো লিম্ফোমা’র প্রধান পরীক্ষা। ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি নামক একপ্রকার উন্নত পরীক্ষায় এটি আরও নিশ্চিত হওয়া যায়। সাবটাইপগু’লোকেও ভালভাবে আলাদা করা যায়। রোগের স্টেইজ বোঝার জন্য এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটিস্ক্যান, পেট-সিটিস্ক্যান, বোনম্যারো পরীক্ষা ইত্যাদি করা হয়। এছাড়াও সার্বিক অবস্থা বোঝার জন্য র’ক্তের রুটিন পরীক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য কিছু পরীক্ষাও করা হয়।

লিম্ফোমা’র চিকিৎসা
লিম্ফোমা’র মূল চিকিৎসা কেমোথেরাপি। স্টেজিংয়ের ওপর নির্ভর করে এবং আ’ক্রা’ন্ত লিম্ফনোডের সাইজ ও অবস্থান বিবেচনা করে রে’ডিওথেরাপিও দেওয়া হয়। কেমোথেরাপি ও রে’ডিওথেরাপিতে ভালো না হলে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হলে ৭০ থেকে ৯০ ভাগ লিম্ফোমা ভালো করা সম্ভব। বাংলাদেশেই লিম্ফোমা’র চিকিৎসা সম্ভব। চিকিৎসা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল। কেমোথেরাপির অধিকাংশ ওষুধ বাংলাদেশেই তৈরি হয়। লিম্ফোমা’র অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনও বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরে সফলতার স’ঙ্গে চলছে।