free hit counter

পু’ষ্টিবিদদের পরামর্শ গ্রহণে আ’গ্রহ বাড়ছে মানুষের

প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনাচরণ। পাল্টে যাচ্ছে খাদ্যাভ্যাসও। এতে বাড়ছে নানা ধরনের অসংক্রা’মক ব্যাধি। যার মধ্যে অন্যতম ডায়াবেটিস, উচ্চ র’ক্তচাপ ও স্থূলতা। শুধু ওষুধ

সেবনে এসব ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে না। এগু’লো রোধে প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। ভালো থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় সঠিক ডায়েট বা

খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম। তবে অধিকাংশ মানুষেরই এ বি’ষয়ে জানাশোনা কম। ফলে সুস্থ থাকার জন্য চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে পুষ্টিবিদদের পরামর’্শ নিতে বেশি আগ্রহ মানুষের।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, একটা সময় ছিল যখন পুষ্টিবিদ শুনলেই মানুষ ভাবতেন রান্নাবি’ষয়ক কেউ হবে হয়তো। তবে সেই অবস্থা ও মানুষের

চিন্তাধা’রার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা এখন রোগীকে খাদ্যাভ্যাস ও পরিকল্পিত জীবনযাপনের জন্য পরামর’্শ নিতে
পুষ্টিবিদদের কাছে পাঠাচ্ছেন।

চিকিৎসকের পরামর’্শ ছাড়াও অনেকে পুষ্টিবিদদের কাছে আসছেন। সরকার প্রত্যেক হাসপাতালে একজন করে পুষ্টিবিদ নিয়োগের নিয়ম করে দেওয়ায় পুষ্টিবিদদের চাহিদাও বাড়ছে।

একটা সময় ছিল যখন পুষ্টিবিদ শুনলেই মানুষ ভাবতো রান্নাবি’ষয়ক কেউ হবে হয়তো। তবে সেই অবস্থা ও মানুষের চিন্তাধা’রার পরিবর্তন

হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা এখন রোগীকে খাদ্যাভ্যাস ও পরিকল্পিত জীবনযাপনের জন্য পরামর’্শ নিতে পুষ্টিবিদদের কাছে পাঠাচ্ছেন।

চিকিৎসকের পরামর’্শ ছাড়াও অনেকে পুষ্টিবিদদের কাছে আসছেন। সরকার প্রত্যেক হাসপাতালে একজন করে পুষ্টিবিদ নিয়োগের নিয়ম করে দেওয়ায় পুষ্টিবিদদের চাহিদাও বাড়ছে।

তবে তরুণ ও যুবকরা এখন স্বাস্থ্যের প্রতি বেশ যত্নবান। তারা ডায়েট ঠিক রাখার পাশাপাশি ব্যায়ামের দিকেও ঝুঁকছেন। অনেকে ব্যায়ামাগারে যাচ্ছেন। আবার অনেকে নিজ বাড়িতে টুকটাক ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি কিনেও কসরত করছেন, যা শারীরিক ও মানসিক উন্নতিতে সহায়ক।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা সাদমান আহমেদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘অফিসে সারাদিন বসে কাজ করা হয়। হাঁটাচলা একদমই কম। এতে স্বাস্থ্য ও মেদ বাড়ছে। নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। অবসাদ অনুভব হয়। এজন্য প্রথমে অনলাইনে ওজন নিয়ন্ত্রণের টিপস নিয়ে ডায়েট শুরু করি। তাতে কিছুটা সুফল পেয়েছি। যাতে স্বাস্থ্যের অন্য সমস্যা না হয়, সেজন্য পরামর’্শ নিতে বনানীর খাদ্য ও পুষ্টি সেন্টারে গিয়েছিলাম। তাদের দেওয়া পরামর’্শ মেনে চলার চেষ্টা করছি।’

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) একটি গবেষণা করেছে। সেখানে ২০০৭-২০১৭ সালের জনমিতি, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা।

ওই গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল অর্থাৎ ১০ বছরে বাংলাদেশে বিবাহিত নারীদের মধ্যে ওজন স্বল্পতাজনিত অ’পুষ্টি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০০৭ সালে এ সমস্যা ভুগছিলেন ৩০ শতাংশ নারী। ২০১৭-১৮ সালে তা কমে ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে স্থূলতার হার বেড়েছে। ২০০৭ সালে বিবাহিত নারীদের মধ্যে ১২ শতাংশ স্থূলতার সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৭-১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশে।

একটা সময় পুষ্টির অভাব আমা’দের জন্য বড় সমস্যা ছিল। তবে সেই পরিস্থিতির ভিন্নচিত্র এখন দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুষ্টিগ্রহণ বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। মানুষ অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড বা তৈলাক্ত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। বাইরের খাবার অনেকের জন্য স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করছে, যা এখন উদ্বেগের পর্যায়ে। এসব কারণে মানুষের অসংক্রা’মক ব্যাধি বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে অনেকে এক্ষেত্রে সচেতন হচ্ছেন।

কয়েকজন পুষ্টিবিদের স’ঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটা সময়ে পুষ্টির অভাব আমা’দের জন্য বড় সমস্যা ছিল। তবে সেই পরিস্থিতির ভিন্নচিত্র এখন দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুষ্টিগ্রহণ বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। মানুষ অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড বা তৈলাক্ত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। বাইরের খাবার অনেকের জন্য স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করছে, যা এখন উদ্বেগে পর্যায়ে। এসব কারণে মানুষের অসংক্রা’মক ব্যাধি বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে অনেকে এক্ষেত্রে সচেতন হচ্ছেন।

এদিকে, পুষ্টিবিদদের পরামর’্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই বেশি সেবা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নিজের ও শিশুদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য পরামর’্শ নিতে অনেকে আসেন। আবার পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিরা, যারা ডায়াবেটিস, কিডনি, হার্ট বা প্রেশারের সমস্যায় ভুগছেন, তারাও আসছেন। ৫০ শতাংশ রোগীই এ ধরনের সমস্যা নিয়ে আসেন।

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিদ রাইসা জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। চিকিৎসকদের চেম্বারে রোগীদের চাপও বেশি। সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা দিতেই হিমশিম অবস্থা। একজন রোগীকে অনেক বেশি সময় দেওয়া একজন চিকিৎসকের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। সুস্থ থাকার জন্য শুধু ওষুধ সেবনই সমাধান নয়।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা যেমন ডায়াবেটিস হলে মিষ্টি খেতে নিষে’ধ করেন। তবে এর পরিবর্তে তারা কী কী খেতে পারেন বা সুন্দর একটি নিয়ম করে দেওয়ার বি’ষয়টি চিকিৎসকরা অতটা দেখেন না। এতে রোগীরা কী খাবেন আর কী খাবেন না, তা নিয়ে দোটানায় থাকেন। দেখা যায়, একটা সময় হাল ছেড়ে দেন অনেকে। এ সমস্যা থেকে বাঁ’চার জন্য বর্তমানে পুষ্টিবিদদের শরণাপন্ন হচ্ছেন অনেকেই। হাসপাতালে পুষ্টিবিদ না থাকায় চিকিৎসকরা সরাসরি রোগীকে পুষ্টিবিদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।’