free hit counter

মু’খের যে ৩ ধরনের দু’র্গন্ধ ডা’য়াবেটিসের ই’ঙ্গিত দেয়

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরেই খুঁজলে পাওয়া যাব’ে ডায়াবেটিসের রোগী। র’ক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো এই রোগ। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে খুব সহজেই

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। বর্তমানে ছোট থেকে বড় অনেকেই দীর্ঘস্থায়ী এই ব্যাধিতে আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছেন। এই রোগের কারণে শরীরের রোগ

প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে বিভিন্ন রোগ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত র’ক্তে শর্করার পরিমাণ পরিমাপ করা উচিত সবারই। প্রাথমিক অবস্থায় ডায়াবেটিস শনাক্ত হলে দ্রুত তা

নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব শুধু জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই। র’ক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে শুরু করলে শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ ফুটে ওঠে।

যার মধ্যে অন্যতম হলো নিঃশ্বা’সে দুর্গন্ধ। তাই নিঃশ্বা’সের দুর্গন্ধও অবহেলা করবেন না। মনে রাখবেন, ডায়াবেটিস অবহেলা করলে স্ট্রোক, অ’ঙ্গচ্ছেদসহ বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি।

কীভাবে ডায়াবেটিস শরীরের গন্ধ তৈরি করে? ডায়াবেটিস কেটোঅ্যাসিডোসিস ডায়াবেটিসের মা’রাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগু’লোর মধ্যে একটি। ডায়াবেটিসের জটিলতা তখনই বিকশিত হয়, যখন কোষে র’ক্তে শর্করাকে শক্তি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পর্যা’প্ত ইনসুলিন না থাকে।

তারপরে লিভার জ্বা’লানির জন্য চর্বি ভেঙে দেয়, যা কিটোন নামক অ্যাসিড তৈরি করে। যখন অনেকগু’লো কিটোন খুব দ্রুত উৎপাদিত হয়, তখন সেগু’লো র’ক্ত ও প্রস্রাবে বিপজ্জনক মাত্রা পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। এই প্রতিক্রিয়া লিভারের অভ্যন্তরে ঘটে, যার ফলে র’ক্ত অম্লীয় হয়ে যায়।

এই অবস্থা নিঃশ্বা’সে ৩ ধরনের গন্ধ তৈরি করতে পারে। এটি বি’ষাক্ততার লক্ষণ। কিটোনগু’লো আমা’দের শ্বা’স ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, যা গন্ধ সৃষ্টি করে। যেমন- নিঃশ্বা’সে ফলের গন্ধ, মলের মতো গন্ধ কিংবা অ্যামোনিয়া-সদৃশ গন্ধ, যা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী কিডনি ব্যর্থতায় আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটে।

এই অবস্থা কত ঘন ঘন হয়? টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিরা সংক্রমণ, আঘা’ত, গু’রুতর অসুস্থতা, অ’স্ত্রোপচারের চাপ বা ইনসুলিন শটের অনুপস্থিত ডোজগু’লোর কারণে কেটোসিডোসিস বিকাশ করতে পারে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিস কেটোসিডোসিস কম ঘন ঘন ও গু’রুতর হয়। যাই হোক, এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিয়ন্ত্রিত র’ক্তে শর্করার দ্বারা ট্রিগার ’হতে পারে।

যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের ক্ষেত্রেও কেটোঅ্যাসিডোসিস ’হতে পারে। এটি অনাহারের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে, যেখানে গ্লুকোজের অভাব শরীরকে শক্তির জন্য কেটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় বাধ্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বোহাইড্রেট কম খাবারের কারণে এই অবস্থাটি খুব কমই বিকশিত ’হতে পারে।

কেটোঅ্যাসিডোসিসের অন্যান্য লক্ষণ-শ্বা’সের গন্ধ ছাড়াও এই অবস্থার অন্যান্য লক্ষণগু’লোর মধ্যে আছে- >> গভীর শ্বা’স >> ক্লান্তি >> অতিরিক্ত প্রস্রাব >> ওজন কমে যাওয়া >> বমি বমি ভাব ও বমি >> পেটে ব্যথা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডায়েট টিপস- ডায়াবেটিসে আ’ক্রা’ন্তদের উচিত প্রতিদিনের খাবারে ক্যালোরি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণ কমানো। এর পাশাপাশি ফাইবার সমৃ’’দ্ধ খাবার যেমন- পুরো শস্য, রুটি, ভাত বা পাস্তা অল্প পরিমাণে খাওয়া। সোডা ও প্যাকেজ করা রস বাদ দিতে হবে।

তাজা কমলা, লেবু, শসা বা স্ট্রবেরি রাখু’ন খাদ্যতালিকায়। এছাড়া প্রচুর ফল ও শাকসবজি খেতে হবে। ডায়াবেটিস-বান্ধব খাবার পরিকল্পনার জন্য ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর’্শ নিন। খাদ্যতালিকায় বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি দিনে বেশ কয়েকবার বাড়ির আশপাশে বা কর্মস্থলে ৩-১০ মিনিট করে হাঁটাহাঁটি করুন। নিয়মিত যোগব্যায়াম করলেও উপকৃত হবেন।