বাসর রাত ও বিড়ালকাহিনি অবশ্যই পড়বেন

বাসর রাত প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে অত্যন্ত গু’রুত্বপূর্ণ একটা দিন। এই দিনটির অ’পেক্ষা যৌ’বনে পা দেওয়ার পর প্রত্যেক যুবক যুবতি করতে থাকে। বাসর রাত যেহেতু অনেক গু’রুত্বপূর্ণ একটা দিন,

তাই এর সম্পর্কে কিছু ধ’রাণা থাকা ভালো। তা না হলে তীরে এস তরী ডুবে যেতে পারে। আর তাতেই বাসর রাত মাটি হয়ে যেতে পারে। বাসর রাতে বিড়াল মা’রা-ছোট ফুফু বেশ ঝাঁঝালো গলায় জিজ্ঞেস করলেন,

‘তোর কি সত্যিই কোনো প্ল্যানপ্লুন নেই?’ আমি মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেয়ালে শিকারের অ’পেক্ষায় থাকা একটা টিকটিকি দেখছিলাম। ফুফুর গলার

ঝাঁজে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা দেখার সৌভাগ্য হলো না। তাঁর দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘কয়েকটা টিকটিকি মা’রলে কেমন হয়?’ এবার

রীতিমতো হুংকার ছাড়লেন তিনি, ‘থাপড়ায়ে দাঁত ফেলে দিব! আমি তোর সাথে ইয়ার্কি করছি?’ দাঁত ফেলে দেওয়ার কথায় দমে গেলাম।

ফুফুর ধারণা, আমা’র মতো একটা ‘হ্যাব’লাকে’ বউ নামক মানুষটি উঠতে-বসতে ‘বেচে খাবে’! কাজেই তেমন কিছু যাতে না হয়, তার জন্য

এখনই ‘প্ল্যানপ্লুন’ করা দরকার! আমা’র এই ফুফু আমা’র দেখা দুনিয়ার সবচেয়ে বোকা এবং ভয়ংকরতম নারী। আমা’দের গোষ্ঠীতে অন্ত

কিংবা আন্তপারিবারিক ঝুট-ঝামেলায় পরামর’্শক হিসেবে তো কাজ করেনই, ধমকি-ধামকি এবং চড়-থাপড় দেওয়ার কাজগু’লোও নিজে দায়িত্ব

নিয়ে করেন! খানিক বাদেই একটু সুর নরম করে বললেন, ‘বাসর রাতে বিড়াল মা’রার কথা যে বলেছি, গল্পটা জানিস তো? বউকে যা টাইট

দেওয়ার, বাসর রাতেই দিতে হয়!’ স্বামী স্ত্রীর বাসর রাত স্বামী স্ত্রীর বাসর রাত- আমি একটু হাই তোলার মতো ভ’ঙ্গি করে বললাম, ‘এই মেয়ে তো আধুনিক যুগের। বিড়াল-টিড়াল মা’রলে ভয় পাবে না। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বরং খাঁচায় বন্দী বাঘ-সিংহের ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হয়!’ এবার আর মুখে নয়, চোখের অ’গ্নিদৃষ্টি দিয়েই বুঝিয়ে দিলেন যে ‘থাপড়ায়ে’ আরও একবার দাঁত ফেলতে ইচ্ছুক তিনি! আমি আবারও দমে গিয়ে বললাম, ‘ঠিক আছে, তুমিই বলে দাও কী করতে হবে।’

‘আজ বাদে কাল বিয়ে। এখন তো আর তেমন কিছু ভেবে বের করা যাব’ে না। তুই বরং তোদের পোষা বিড়ালটাকেই…’
ফুফু কথা শেষ করতে পারলেন না। এতক্ষণ নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকা ফুফা বলে উঠলেন, ‘তোমা’র মাথাটাথা খারাপ হয়েছে নাকি! কী আবোলতাবোল বকছ!’ বাসর রাতে বউ কেন স্বামীকে দুধ খেতে দেয়? জেনে নিন-ফুফু নির্লি’প্ত গলায় বললেন, ‘হ্যাঁ, খারাপ হয়েছে তো মাথা! এখন তুমি কী করবে?’

ফুফা এমনভাবে চুপ করে গেলেন যে আমি বুঝলাম, ছোট ফুফুর মতো কারও মাথা খারাপ হলে কী করা উচিত, সেটা তাঁর জানা নেই! ফুফু আমা’র দিকে তাকিয়ে কী একটা বলতে গিয়ে আবার ফুফার দিকে চেয়ে বললেন, ‘যেভাবে বসে আছে, ওভাবেই চুপ করে বসে থাকুক। কথার মধ্যে বাঁ হাত ঢোকানোর দরকার নেই!’ তারপর আমাকে হাতেকলমে শিখিয়ে-পড়িয়ে দিলেন, কীভাবে কী করতে হবে। আগে থেকেই বাসার আধপোষা কম বয়সী বিড়ালটাকে খাটের নিচে রেখে আসা হবে। বিড়াল তো আর ছোট ফুফা নয় যে চুপচাপ বসে থাকবে! তার কাজই হচ্ছে মিউ মিউ করা! আর যে-ই মিউ করবে,

আমা’র কাজ হবে মুখে চূড়ান্ত বির’ক্তির ভাব এনে ‘এইটা আবার কোত্থেকে আসল’ বলে খেল দেখানো! বাসর রাতে যা করবেন, যা করবেন না
ইসলামে স্বামী স্ত্রীর বাসর রাত-আমি অনেক কষ্টে হাসি চেপে রাখলাম! কিন্তু ফুফুর কথা না শুনে উপায় নেই। এই বোকা মানুষটার কথায় অন্যথা হলে বিয়েবাড়িতে লঙ্কাকাণ্ড বেধে যাব’ে। তা ছাড়া ব্যাপারটা দেখে নতুন বউ কেমন ভড়কে যায়, সেটাও খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল।
অবশেষে ‘আজ বাদে কালের’ সেই বাসর রাত এল। পরিকল্পনামাফিক সবকিছুই হয়েছে। এখন ধর তক্তা মা’র পেরেক! কিন্তু বাসরঘরে ঢুকেই আক্কেলে বিরাট ধাক্কা লাগল। খাটের ওদিক থেকে আওয়াজ এল, ‘ফ্যানের সুইচটা অন করেন তো, গরমে দম বন্ধ হয়ে আসছে!’ তাকিয়ে

দেখি ঘোমটা-টোমটা ফেলে উনি আয়েশ করে বসে আছেন! এটা কেমন কথা! এত দিন কল্পনা করে আসছি, সিনেমাটিক কায়দায় গিয়ে ঘোমটা সরিয়ে থুতনি একটু ওপরে তুলে বলব, ‘বাহ্, কী অ’পূর্ব!’ আর এখন? পাশে গিয়ে বসতেই রাজ্যের আলাপ জুড়ে দিল। কত কী কাহিনি! কিন্তু বিড়ালটার হয়েছেটা কী? কতক্ষণ হয়ে গেল অথচ মিউ করার নাম নেই! খানিক পর আমা’র অস্থিরতা দেখে চোখে কৌতুক নিয়ে বলল, ‘বিড়াল খুঁজছেন?’ আমা’র হাঁ করা মুখের দিকে না চেয়েই বলতে লাগল, ‘সেই তখন থেকে মিউ মিউ করছে, তাই একটা আছাড় দিয়ে দিলাম শেষ করে!’

বিয়ের পর বাসর রাত সম্পর্কে কি বলে ইসলাম? জেনে নিন এখান থেকে-তারপরই প্রাণখোলা হাসিতে ঘর কাঁপিয়ে, আঁচলের নিচ থেকে জুলজুল করে তাকিয়ে থাকা বিড়ালটা বের করে আহ্লাদি গলায় বলল, ‘এমন বোকাও মানুষ হয়! এই গল্প তো সবারই জানা। আর ভালোবাসা ছাড়া আমাকে অন্য কোনো জিনিস দিয়ে কাবু করা যাব’ে না, সেটা আগেই বলে দিচ্ছি!’ ততক্ষণে আবি’ষ্কার করলাম অন্ধকার ঘরে তার একটা হাত আমা’র হাতে!