মাস্ক নেই, ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে মুখে স্কচটেপ দিয়ে লাগালেন কাগজ

কঠোর লকডাউনের মধ্যে গাড়ি মেরামতের জন্য রাস্তায় বের হন মো. রাজীব (২৬) নামের এক পিকআপ চালক। কিন্তু এসময় তার মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। এরমধ্যেই সেখানে এসে পড়ে ভ্রাম্যমাণ আ’দালতের গাড়ি।

তাই শাস্তি থেকে বাঁচতে কাগজ এবং স্কচটেপ দিয়ে তাৎক্ষণিক মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নেন তিনি। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি,

জরিমানা গু’নতে হয় তাকে। ২৩ জুলাই শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল শহরের নতুনবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আ’দালতের

বিচারক ও জে’লা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মা’রুফ দস্তগীর জানান, তার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আ’দালতের একটি দল শুক্রবার দুপুর

থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চকবাজার, বাজাররোড, হাসপাতাল রোড, নতুনবাজার, নথুল্লাবাদসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অ’ভিযান চালায়। বিকেল ৫টার

দিকে নতুনবাজার এলাকায় অ’ভিযানের সময় একটি পিকআপকে থামা’র সংকেত দেয়া হয়। এর আগেই দূর থেকে ভ্রাম্যমাণ আ’দালতের দল

দেখে পিকআপে থাকা কাগজ ও স্কচ টেপ দিয়ে তাৎক্ষনিক মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নেন চালক রাজিব। পিকআপ থামিয়ে বিধিনিষে’ধের

মধ্যেও তার ঘর থেকে বের হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে চালক রাজীব দাবি করেন, তিনি পিকআপটি মেরামতের জন্য বের হয়েছেন।

মাস্ক না ব্যবহার করে মুখে স্কচটেপ দিয়ে কাগজ লাগানোর কারণ জানতে চাইলে চালক জানান, মাস্ক ভুলে বাসায় ফেলে এসেছেন। এসময়

মাস্ক না থাকায় তাকে ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর মাস্ক পরিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। জে’লা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

মো. মা’রুফ দস্তগীর আরও জানান, কঠোর বিধিনিষে’ধের প্রথম’দিনে নগরীর রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি কম ছিল। মা’র্কেট ও ছোট-বড়

দোকানপাট বন্ধ ছিল। যৌ’ক্তিক কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া মানুষদের প্রশাসনের জেরার মুখে পড়তে হয়। এসময় বিধিনিষে’ধ না মানায়

জরিমানা করা হয়েছে অনেককে। তবে যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এদিকে জে’লা

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর কঠোর বিধিনিষে’ধের প্রথম’দিন জে’লা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের নির্দেশনায় বরিশাল জে’লার বিভিন্ন স্থানে ১৩ টি ভ্রাম্যমাণ আদলত পৃথকভাবে অ’ভিযান পরিচালনা করে। এসময় ৭৩ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৭১ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

error: চুরি করা নিষেধ । 🤣