ভিন্ন ধর্মের পন্ডিতরাও স্বীকার করেছেন মহানবীর শ্রেষ্ঠত্ব

আল্লাহ্‌ মহান। এই সুন্দর দুনিয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। তিনিই আমা’দের একমাত্র ভরসা। বিভিন্ন হাদীস অনুসারে আল্লাহ’র ৯৯টি নামের একটি তালিকা আছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট ধা’রাবাহিক ক্রম নেই।

বান্দা-বান্দি আল্লাহকে যে কোন নামে ঢাকলেই তিনি সাড়া দেন। আল্লাহ বান্দার প্রতি ক্ষ’মাশীল। মানুষের জীবনে প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহ তাআলার

নেয়ামতে পরিপূর্ণ। মহান আল্লাহ মানব জাতির জন্য রহমতস্বরূপ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিলেন মহানবী মুহা’ম্ম’দ সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়াসাল্লামকে। তিনি ছিলেন সুন্দরতম চরিত্রের অধিকারী। যার সাক্ষ্য আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন। ১ লাখ বা ২ লাখ নবী রসুল এসেছেন দুনিয়াতে।

মুহা’ম্ম’দ (সা.) শুধু সর্বশ্রেষ্ঠ নয়, সর্বশেষ নবীও। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে মহান চরিত্রের অধিকারী এবং সর্বোত্তম

আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আমি আপনাকে মাখলুকাতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।

হজরত মুহা’ম্ম’দ (সা.) জগদ্বাসীর জন্য শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন। তিনি এমন এক জীবনাদর্শের পথ দেখিয়েছেন যেখানে এক

মানুষের স’ঙ্গে অন্য মানুষের ভেদাভেদকে স্বীকার করা হয় না। মানুষ হিসেবে, ধ’র্ম প্রবর্তক হিসেবে মহানবী হজরত মুহা’ম্ম’দ (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব

অকপটে স্বীকার করেছেন ভিন্ন ধ’র্মাবলম্বী গু’ণীজনরাও। ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকায় বলা হয়েছে : ‘জগতের সকল ধ’র্মের ধ’র্মীয় ব্যক্তিত্বের

মধ্যে হজরত মুহা’ম্ম’দই (সা.) বেশি সফলকাম হয়েছে।’ বাংলা ভাষা শুধু নয়, বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দিল্লির

জামে মসজিদ থেকে প্রকাশিত পত্রিকার জন্য পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ১৯৩৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এক বাণী পাঠান কবিগু’রু। তাতে

তিনি লেখেন : ‘যিনি বিশ্বের ম’হত্তম’দের মধ্যে অন্যতম, সেই পবিত্র পয়গম্বর হজরত মুহা’ম্ম’দের উদ্দেশে আমি আমা’র অন্তরের গভীর শ্র’দ্ধা

নিবেদন করি। মানুষের ইতিহাসে এক নতুন সম্ভাবনাময় জীবনশক্তির সঞ্চার করেছিলেন হজরত মুহা’ম্ম’দ পয়গম্বর। এনেছিলেন নিখাদ শু’দ্ধ

ধ’র্মাচরণের আদর্শ।’ গু’রু নানক ছিলেন শিখ ধ’র্মের প্রবর্তক। কয়েক কোটি মানুষ এ ধ’র্মের অনুসারী। তিনি রসুল (সা.)-এর ওপর নাজিলকৃত

কোরআনুল কারিম সম্পর্কে বলেছেন : বেদ পুরাণের যুগ শেষ হয়ে গেছে। এখন দুনিয়াকে পরিচালিত করার জন্য পবিত্র কোরআনই একমাত্র

গ্রন্থ। ভারতের স্বাধীনতার জনক মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, ‘পাশ্চাত্য যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত প্রাচ্যের আকাশে এখন উদিত হলো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং আর্ত পৃথিবীকে তা দিল আলো ও স্বস্তি।

ইসলাম মিথ্যা ধ’র্ম নয়। শ্র’দ্ধার স’ঙ্গে হিন্দুরা তা অধ্যয়ন করুক তাহলে আমা’র মতোই তারা একে ভালোবাসবে।… অনুচরদের জীবনী থেকে আমি খোদ নবীর জীবনে উপনীত হলাম। যখন দ্বিতীয় খ- শেষ হলো, তখন দুঃখ পেলাম এই ভেবে যে, সেই মহৎ জীবন সম্পর্কে আর কিছু পড়ার থাকল না আমা’র। আমা’র দৃঢ়বিশ্বা’স জন্মাল যে, তরবারি নয়, নবীর কঠোর সারল্য, সম্পূর্ণ অহংবিলোপ, চুক্তির প্রতি সযত্ন সম্মান, বন্ধুজন ও অনুসারীদের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং নির্ভীকতাই ইসলামের আসন অর্জন করেছেন।

স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ভেংকট রত্নম বলেছেন- “এটা ইসলামের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য যে, তা মানুষে মানুষে পার্থক্য সৃষ্টি করে না। লোহার তলোয়ার নয়, এর সাম্য ও ভ্রাতৃত্বই অনেক হিন্দুকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করেছে। …আল্লাহর নবী মুহা’ম্ম’দ অন্য যে কোনো ব্যক্তির চেয়ে দুনিয়ার অধিকতর ম’ঙ্গল করে গেছেন।” দি লাইফ অব মুহা’ম্ম’দ গ্রন্থের প্রণেতা স্যার উইলিয়াম মুর লিখেছেন : “ধ’র্মের ব্যাপারে যেমন নীতিতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের সকল ব্যাপারেও ঠিক তেমনি সমভাবে কোরআনই চূড়ান্ত এবং তার অধিকাংশ বাক্যই এত স্পষ্ট যে, প্রতিযোগী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর পর্যন্ত তাতে কোনো প্রশ্নের অবকাশ থাকে না।

এর চেয়ে এত হীন কোনো জাতি খুঁজে পাওয়া ছিল কঠিন, যে পর্যন্ত না সহসা সং’ঘটিত হলো অলৌকিক ঘটনা। আবির্ভূ’ত হলেন একজন মানুষ, মুহা’ম্ম’দ ব্যক্তিত্ব ও ঐশী নির্দেশ পরিচালনার দাবিতে যিনি প্রকৃতই সম্পন্ন করলেন অসম্ভবকে, যু’দ্ধরত গোত্রপুঞ্জের মিলনকে।” যন- “অন্ধকারে তিনি ছিলেন আলো এবং তাঁর জীবনকে আমর’া পাই এত মহৎ আর এত খাঁটি হিসেবে যে, আমর’া অনুভব করতে পারি কেন তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছিল তাঁর চারদিককার মানুষের কাছে মহাপ্রভুর বাণী বহন করার জন্য। রসুল (সা.) সম্পর্কে ‘ইসলাম দ্য মিস আন্ডারস্টুড রিলিজিয়ন’ গ্রন্থে জেমস মিসেনার লিখেছেন : “হজরত মুহা’ম্ম’দ (সা.) সেই প্রত্যাদিষ্ট মহান ব্যক্তিত্ব যিনি দীন ইসলাম কায়েম করেন।… আল্লাহর কালাম তাঁর নিকট নাজিল ’হতে থাকে জিবরিল ফেরেশতার মাধ্যমে। তাঁর পূর্ববর্তী অধিকাংশ আম্বিয়ায়ে কেরামের মতো হজরত মুহা’ম্ম’দ (সা.)ও নিজের অ’পর্যা’প্ততার কথা ভেবে আল্লাহর কালাম পঠনে ইতস্তত করছিলেন।

error: চুরি করা নিষেধ । 🤣