পা’য়ুপথে ক্যা’ন্সার হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?

মলদ্বারের রোগের মধ্যে পাইলস ও ফিস্টুলা জটিল রোগ। আমা’দের ধারণা, পায়ুপথের বিভিন্ন সমস্যা যেমন— র’ক্ত যাওয়া, ব্যথা হওয়া, ফুলে যাওয়া এসবই হয় পাইলসের কারণে। এ ধারণা ঠিক নয়।

প্রতিটি উপসর্গই পায়ুপথে ক্যান্সার ’হতে পারে। ফিস্টুলা বা ভগন্দর রোগেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পায়ুপথে ক্যান্সার হলে সেটিও ফিস্টুলা হিসেবে আ’ত্মপ্রকাশ করতে পারে।

পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ ও ক্যান্সার নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ব’ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

যেসব রোগে পায়খানার স’ঙ্গে র’ক্ত যায়, তার মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে র’ক্ত যায় যেসব রোগে, সেগু’লো হচ্ছে— ১. এনাল

ফিসার ২. পাইলস ৩. রেকটাল পলিপ (শিশুদের বেশি হয়) ৪. ক্যান্সার ৫. আলসারেটিভ কেলোইটিস ৬. ফিস্টুলা ও অন্যান্য। অনেকে বলে থাকেন— পায়খানা পরিষ্কার হয় না। পায়খানার বেগ

এলে কিছু তরল জিনিস বের হয়ে আসে, কিন্তু পায়খানা অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। মাঝে মাঝে টয়লেটে র’ক্তও যায়। পরবর্তী সময় মলদ্বারে ও

কোমর’ের নিচের দিকের ব্যথা মলদ্বার থেকে পেছন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরের ব্যথা কোমর’ে অনুভূ’ত ’হতে পারে, আবার উরুর দিকেও সম্প্রসারিত ’হতে পারে।

এমন লক্ষণকে আমর’া পাইলস-ফিস্টুলা হিসেবে প্রথমে চিহ্নিত করে ভুল করে থাকি। এগু’লো মূলত মলদ্বারে ক্যান্সারের লক্ষণ। দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে রেকটামের ভেতরে ক্যান্সার চিহ্নিত করা হয়। সেগু’লো হচ্ছে—সিগময়ডস্কপি ও প্রকটস্কপি।

এ ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে— রোগীরা মলদ্বারের ভেতর যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করাতে চান না। ব্যথা ’হতে পারে এই ভেবে খুব ভয় পেয়ে যান। জিজ্ঞাস করেন যে, এই পরীক্ষা করলে আমি আগামীকাল অফিসে যেতে পারব কিনা?

এটি নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, এ পরীক্ষায় সামান্য অস্বস্তি ছাড়া কোনোরূপ ব্যথা হয় না। বেশিরভাগ রোগীই এ পরীক্ষায় কোনোরূপ ব্যথা পান না। এ পরীক্ষার জন্য খুবই সামান্য সময়ের প্রয়োজন। সারাদিন না খেয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না। মলদ্বারে তীব্র ব্যথা আছে এমন রোগীরও এ পরীক্ষা করা যায়।

মফস্বল থেকে আসা অনেক রোগী দেখি যাদের ক্যান্সার আছে অথচ হাতুড়ে চিকিৎসকরা তদের ইনজেকশন দিচ্ছেন। কোনো কোনো হাতুড়ে চিকিৎসক আবার এক ধাপ এগিয়ে সেখানে অ’স্ত্রোপচারের পরামর’্শ দেন।

রেকটাম ক্যান্সারের রোগীদের একই স’ঙ্গে পাইলস ও ক্যান্সার থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমর’া যদি পাইলসের চিকিৎসা করি, তা হলেও দেখা যায় যে, রোগীর সমস্যা যাচ্ছে না, তখন মলদ্বারের ভেতর লম্বা যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা (সিগময়ডস্কপি বা কোলনস্কপি) করলে ক্যান্সার ধ’রা পড়ে। এ জাতীয় সমস্যাও মাঝে মধ্যে দেখা যায়।

মলদ্বারের মুখ থেকেও র’ক্ত যেতে পারে আবার অনেক ভেতর অর্থাৎ রেকটাম বা বৃহদান্তের ভেতর থেকেও র’ক্ত যেতে পারে। কী কারণে যাচ্ছে তা বিশেষ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একজন উপযুক্ত চিকিৎসক বলে দিতে পারেন।

কিছু কিছু রোগী বলেন, আমা’র পাইলস হয়েছে আমাকে কিছু ওষুধ দেন খেয়ে দেখি পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার নেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের পরীক্ষা না করে অনুমান নির্ভর পাইলস চিকিৎসা দেওয়া ঠিক নয়। কারণ এতে যে রোগীদের ক্যান্সার আছে তা শনাক্তকরণে বিলম্ব হবে। এতে করে বড় বিপদ ’হতে পারে।