কাশির সঙ্গে-রক্ত গেলে কী করবেন?

শীতকালে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি লেগে থাকে। কফ জমে গেলে সেটি দীর্ঘদিন ভোগায়। নানা ওষুধেও কাশি সহজে দূর হয় না। অনেকের কাশির স’ঙ্গে র’ক্তও যায়। যেটিকে র’ক্তকাশি বলা হয়।

র’ক্তকাশি রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের জন্যই একটি ভীতিকর লক্ষণ। এ রকম মনে হলে প্রথমেই কাশিতে র’ক্তের পরিমাণ দেখতে হবে। যদি ২৪

ঘণ্টায় ৫০০ মিলি বা তার বেশি র’ক্ত যায়, তাকে ম্যাসিভ বা বৃহদায়তন র’ক্তকাশি বলে। এ ধরনের রোগীর মৃ’ত্যুঝুঁকিও থাকে। এ বি’ষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক ও

কনসালটেশন সেন্টারের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহা’ম্ম’দ আজিজুর রহমান। কফের স’ঙ্গে র’ক্ত গেলে আতঙ্কিত হওয়ারই কথা। কাশতে

কাশতে র’ক্ত যাওয়া মানেই যক্ষ্মা- ধারণাটি কিন্তু ঠিক নয়। যদিও আমা’দের দেশে যক্ষ্মা’র হার অনেক বেশি এবং কফের স’ঙ্গে র’ক্ত গেলে যক্ষ্মা পরীক্ষা করা জরুরি। তবু ভুলে গেলে চলবে না যে,

যক্ষ্মা ছাড়াও এ সমস্যার আরও নানা কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘদিনের কাশি, প্রচুর কফ নিঃসরণ, স’ঙ্গে র’ক্তপাত, যক্ষ্মা বা ফুসফুসে প্রদাহের

পুরনো ইতিহাস থাকলে ব্রংকিয়েকটেসিস নামের এ ধরনের রোগের কথা ভাবা হয়। সাধারণ এক্স-রের চেয়ে বুকের সিটি স্ক্যানে এ রোগ ধ’রা পড়ে ভালো।

সাধারণ নিউমোনিয়াতেও হঠাৎ অনেক জ্বর, বুকব্যথা ও কাশির স’ঙ্গে মর’িচা রঙের কফ ’হতে পারে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, দুর্গন্ধযুক্ত কাশি ও

কফের স’ঙ্গে র’ক্ত যায় ফুসফুসে ফোড়া হলে। বয়স্ক ব্যক্তির কাশি, গলা বসে যাওয়া, কফের স’ঙ্গে র’ক্তপাত, ওজন হ্রাস জাতীয় উপসর্গ দেখা দিলে ফুসফুসের ক্যান্সারের বি’ষয়টিও মাথায় রাখা উচিত।

ফুসফুসের রোগেই শুধু কফের স’ঙ্গে র’ক্তপাত হয়, তা নয়। নানা রকম হৃদরোগেও ’হতে পারে। যেমন বাতজ্বরের ইতিহাস, বুক ধড়ফড়ানি ও কফের স’ঙ্গে র’ক্ত যেতে পারে হৃদযন্ত্রের ভালভজনিত সমস্যায়। বুকের র’ক্তনালিতে হঠাৎ বাধা (পালমোনারি অ্যাম্বলিজম), শ্বা’সকষ্ট ও কফের স’ঙ্গে র’ক্ত যেতে পারে। কিছু ওষুধের কারণে দে’হের র’ক্তপাতের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের র’ক্তরোগ, যেমন হিমোফিলিয়া, লিউকোমিয়া হলে যে কোনো ধরনের র’ক্তপাত ’হতে পারে।

ফুসফুসের শ্বা’সনালি র’ক্তে পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে ফুসফুসের অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের আ’দান-প্রদান ব্যা’হত হয়ে রোগীকে মৃ’ত্যুমুখে ঠেলে দেয়। এ কারণে ম্যাসিভ র’ক্তকাশির রোগীকে তাৎক্ষণিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করে শ্বা’সনালিতে টিউব দিয়ে কৃত্রিম শ্বা’স-প্রশ্বা’সের ব্যবস্থা করতে হয়। যে ধমনি থেকে র’ক্তক্ষরণ হচ্ছে— তা চিহ্নিত করে ধমনিতে এমবোলাইজেশন করতে হবে অথবা ফুসফুসের এ অংশটি কে’টে বাদ দিতে হবে।

র’ক্তের পরিমাণ কম হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসায় র’ক্তকাশি সেরে যায়। চিকিৎসার পরও যদি না সারে, সে ক্ষেত্রে ধমনি এমবোলাইজেশন ও সার্জারির প্রয়োজন ’হতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে রোগ ধ’রা পড়ে না, সেসব রোগীকে নির্দিষ্ট সময়ে ফলোআপ দিতে হবে।

কারণ যা-ই হোক, কফের স’ঙ্গে র’ক্ত যাওয়াটা মোটেই স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। সঠিক রোগের ইতিহাস ও সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এর কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। এ ধরনের উপসর্গের পেছনে লুকিয়ে থাকে নানা জটিল রোগ।