বয়স বাড়লে ঘন ঘন প্র’স্রাব হয় কেন?

শরীরের অতিরিক্ত বর্জ্য প্রস্রাব হয়ে বেরিয়ে আসে। মূলত এই কাজটির অনুঘটক কিডনি। মূত্রতন্ত্র এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। একজন স্বাভাবিক মানুষের দিনে নিদেনপক্ষে ৫ বার প্রস্রাব হয়ে থাকে।

এর কমবেশি হলে বুঝতে হবে শরীরে কোনো না কোনো সমস্যা আছে। ডায়াবেটিস রোগীদের প্রস্রাব বেশি হয়ে থাকে। আবার বয়স বাড়লে

প্রস্রাবের ঘনত্ব বাড়ে। এ বি’ষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. সোহরাব হোসেন সৌরভ। মানব শরীরে পানি ও লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে

কিডনি-মূত্রতন্ত্র বিশেষ অবদান রাখে। বর্জ্য নিঃসরণে মূত্রতন্ত্রের অ’পর্যা’প্ত ক্ষমতা বা অক্ষমতায় এসব বর্জ্য শরীরে জমা হয়ে আমা’দের শরীরের সুস্থ আবহকে বিঘ্নিত করে।

একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টায় সাধারণত ২ দশমিক ৫ থেকে তিন লিটার পানি বা পানীয় পান করে থাকেন। কিডনির কাজ করার ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলে, পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার খুব বড় তারতম্য না হলে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৫০০ সিসি প্রস্রাব কিডনি তৈরি করে থাকে।

শরীরের সব বর্জ্য যে প্রস্রাবের স’ঙ্গে বের হয় তা নয়। কিছু পানি ঘাম আকারে, কিছু পানি শ্বা’স-প্রশ্বা’সের স’ঙ্গে, কিছু পানি মলের স’ঙ্গে বের হয়ে যায়।

যেহেতু আমা’দের প্রস্রাবের থলির স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ৩০০ সিসি, তাই স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টায় পাঁচবার প্রস্রাব করে থাকে। সাধারণত দিনে চারবার আর রাতে একবার।

নানাবিধ স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক কারণে বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দিতে পারে, আবার কমেও যেতে পারে। যদি আমর’া অতিরিক্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার খাই, তবে প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি হয়, বারবার প্রস্রাব হয়। বারবার প্রস্রাব হয় ডায়াবেটিসেও।

অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে বয়োবৃ’দ্ধির স’ঙ্গে বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবেই বৃ’দ্ধি ঘটে প্রোস্টেট গ্রন্থির। প্রোস্টেট গ্রন্থি প্রস্রাব প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে প্রস্রাবের থলি সব সময় সম্পূর্ণ খালি হয় না।

আর বৃ’দ্ধি পাওয়া প্রোস্টেট সৃষ্টি করে প্রস্রাবের থলির মুখে এক ধরনের অস্বস্তি। বয়োবৃ’দ্ধির কারণে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার প্রস্রাবের থলিরই ধারণক্ষমতা কমে যায়। বারবার প্রস্রাব করার প্রবণতা বেড়ে যায়।